সারাদেশ ১৬ নভেম্বর, ২০২৩ ১০:৩৩

বিয়ের পর রুমে তালা বদ্ধ করে রাখতেন স্বামী, ৯৯৯-এ কল করে রক্ষা

আমাদের কাগজ ডেস্ক: স্ত্রীকে মারধর ও হত্যাচেষ্টা চালিয়ে রুমের ভেতরে তালা দিয়ে আটকে রাখে স্বামী। যদিও এটি কোন বাংলা ছবির গল্পকে মনে করিয়ে দেবে তবুও সত্য।

ঘটনায় বুধবার ১৫ নভেম্বর, দুপুরে মানিকগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন ভুক্তভোগী গৃহবধূ সোমা আকতার। বিয়ের দেড় বছরের মাথায় তুচ্ছ তুচ্ছ ঘটনার জেরে মারধর করে হত্যাচেষ্টা চালিয়ে আসছিল অভিযুক্ত আল মাহমুদ সবুজ।

পরে ওই ভুক্তভোগী গৃহবধূ ৯৯৯- করলে সাটুরিয়া থানা পুলিশ ওই ভুক্তভোগী গৃহবধূ সোমা আকতারকে উদ্ধার করে স্থানীয়দের সহায়তায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করে। এর আগে, ১০ নভেম্বর সন্ধ্যায় তাকে মারধর করে হত্যাচেষ্টা চালায় তার স্বামী পরিবারের আত্মীয়-স্বজনরা।

মামলার বাদী সোমা আকতার বলেন, চলতি বছরের ২৬ মার্চ ভান্ডারীপাড়া এলাকার মৃত বাবুল মিয়ার ছেলে আল মাহমুদ সবুজের সঙ্গে লাখ টাকা দেনমোহরে তার বিয়ে হয় তার। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই স্বামীর আসল চেহারা ধিরে ধিরে সামনে আসতে থাকে। বুঝতে আর বাকি থাকেনা ভুল পথে পা- বাড়িয়েছেন তিনি।

ভুক্তভোগী সোমা বলেন, ১০ নভেম্বর সন্ধ্যায় তাকে মারধর করে এক কক্ষের মধ্যে তালাবদ্ধ করে রাখে তার স্বামী পরিবারের স্বজনরা। পরে পুলিশ স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।এরপর থেকে একটানা তিন দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনি ভর্তি থাকলেও খোঁজ নেয়নি তার স্বামী বা তার পরিবারের কেউ। সুস্থ হয়ে এসব বিষয়ে সাটুরিয়া থানা পুলিশে জানালে থানা পুলিশ কোর্টে মামলা দায়েরের পরামর্শ দেন। যে কারণে ন্যায় বিচারের প্রত্যাশায় তিনি কোর্টে মামলা করেছেন।

তিনি আরও বলেন, পারিবারিকভাবে তার স্বামী সবুজ বিত্তশালী। এর আগেও এক বিয়ে করে ছয় মাসের শিশুসহ সেই স্ত্রীকে তালাক দেন।

সাটুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকুমার বিশ্বাস বলেন, ৯৯৯ থেকে কল পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে স্থানীয়দের সহায়তায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে সে মামলা করতে থানায় আসলে তাকে কাবিননামা নিয়ে আসতে বলা হয়। পরে আর সোমা আসেনি বলে জানান তিনি।

মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে মানিকগঞ্জ জজ কোর্টের আইনজীবী খন্দকার সুজন হোসেন বলেন, স্ত্রীকে মারধর হত্যাচেষ্টার অভিযোগে সবুজসহ মোট সাতজনকে আসামি করে সাটুরিয়া আমলি আদালতে মামলাটি করা হয়।

সাটুরিয়া আমলি আদালতের বিচারক ছুটিতে থাকায় জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ২নং এর বিচারক রাহুল দে মামলাটি আমলে নিয়ে পিবিআইকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেন।

আমাদেরকাগজ/এমটি