সারাদেশ ২ নভেম্বর, ২০১৯ ০৭:০৩

নওগাঁর বালকদের বুদ্ধিমত্তায় প্রাণ বাচলো হাজারো মানুষের

ডেস্ক রিপোর্ট।।

নওগাঁর রানীনগরে রেল লাইনের স্লিপার ভাঙা দেখে চলন্ত ট্রেন থামাতে লাল গেঞ্জি আর গামছা উড়িয়ে সংকেত দেয় একদল বালক। সংকেত পেয়ে ট্রেন থামিয়ে দেন চালক। এতে দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পায় ট্রেনটি। একতা এক্সপ্রেস নামের ট্রেনটি এক হাজারেরও বেশি যাত্রী বহন করছিল। শুক্রবার (১ নভেম্বর) রাতে উপজেলা শহর থেকে প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার দক্ষিণে গোনা ইউনিয়নের বড়বড়িয়া-গোনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, রানীনগর স্টেশন আউটারে চকের ব্রিজের আগে বড়বড়িয়া-গোনা এলাকায় রেললাইনের নিচের অংশ প্রায় দ্বিখণ্ডিত হয়ে যায়। রেললাইন পার হওয়ার সময় বিষয়টি কয়েকজন বালকের নজরে পড়ে। যেকোনও সময় লাইনটি ভেঙে গিয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করে। তারা ভাঙা রেললাইনের পাশে অপেক্ষা করতে থাকে। কিছুক্ষণ পর দেখে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা একতা এক্সপ্রেস রানীনগরের দিকে যাচ্ছে। তাৎক্ষণিক তারা আগুন জ্বালিয়ে লাল গেঞ্জি ও গামছা উঁচিয়ে ট্রেন থামার সংকেত দেয়। এ সময় রেললাইনের ভাঙা অংশের ঠিক আগে ট্রেনটি থামিয়ে দেন চালক। এতে দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পায় হাজারো যাত্রী। এরপর ট্রেনচালক বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানান।

রেললাইনের ভাঙা অংশরাণীনগর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মানিক জানান, কয়েকজন বালকের বুদ্ধিমত্তায় ট্রেনটি বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে। পরে সান্তাহার রেলওয়ে জংশনের আইডব্লিউ’র একটি দল এসে লাইন মেরামত করে এবং উভয় পাশের আটকে পড়া ট্রেন চলাচলে স্বাভাবিক হয়।

আত্রাইয়ের আহসানগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘বালকদের কল্যাণে একতা এক্সপ্রেস ট্রেনটি থামনোর পর রানীনগরে আটকা পড়েছিল ঢাকাগামী আন্তঃনগর পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ও বরেন্দ্র এক্সপ্রেসও। রেললাইনের ভাঙা ওই অংশ সরিয়ে আরেকটি পাত বসালে দেড় ঘণ্টা পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।’

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন