আন্তর্জাতিক ২৩ আগস্ট, ২০১৯ ১১:২১

যৌন নির্যাতনকারী বাবাকে হত্যা করলো তিন মেয়ে

ক্রিস্টিনা, অ্যাঞ্জেলিনা ও মারিয়া তিন বোন তারা। ২০১৮ সালের জুলাইয়ে তিন বোন মিলে তাঁদের বাবাকে হত্যা করেন বলে অভিযোগ আছে। ঘটনার সময় বাবা মিখাইল খাচাতুরন ঘুমিয়ে ছিলেন। তিন বোনের একজন হাতুড়ি, একজন ছুরি ও একজন পিপার স্প্রে নিয়ে তাঁর ওপর হামলা চালান। পরে তাঁদের গ্রেপ্তার করে রাশিয়ান পুলিশ।

রাশিয়াইয় ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় খুনে তিন বোনের মুক্তির জন্যই এখন আবেদন করছেন লাখো মানুষ। এর মধ্যে তাদের মুক্তি চেয়ে তিন লাখের বেশি মানুষ অনলাইনে আবেদন করেছেন তাদের মুক্তি চেয়ে।

ঘটনাটি যখন ঘটে, তখন রাশিয়ায় ব্যাপক আলোড়ন তুলেছিল এটি। যে বিষয়টি মানুষকে বিস্মিত করে তা হলো—তিন বোন কেমন করে তাঁদের বাবাকে হত্যা করতে পারলেন? তবে তদন্তে বের হয়ে আসে ভেতরের কাহিনি। আর সেই কাহিনিটা মোটেও ভালো কিছু নয়।

ক্রিস্টিনা, অ্যাঞ্জেলিনা ও মারিয়া তাঁদের বাবার সঙ্গে থাকতেন। সবার ছোট ক্রিস্টিনার বয়স ছিল ১৭, অ্যাঞ্জেলিনার ১৮ ও মারিয়ার ১৯। ঘটনার দিন ২৭ জুলাই এক এক করে তিন মেয়েকেই নিজের ঘরে ডেকে নেন মিখাইল। ঘর পরিষ্কার হয়নি কেন?—এ জন্য অনেক বকাঝকা করেন মেয়েদের। মারধরও করেন। এমনকি তাঁদের মুখে ‘পিপার স্প্রে’ নিক্ষেপ করেন। এরপর তিনি ঘুমিয়ে পড়লে মেয়েরা তাঁকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে ও ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন। তাঁর শরীরে ৩০ বার ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে মেয়েরাই পুলিশ ডাকেন। তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

বাবার প্রতি মেয়েদের এত আক্রোশ কেন? কেবল ঘর পরিষ্কারের জন্য বকাঝকাই এই হত্যাকাণ্ডের কারণ? এমনটা ভাবতে পারছিল না পুলিশও। তদন্ত শুরু করে তারা। তদন্তে উঠে আসে এক ভয়াবহ পারিবারিক নির্যাতনের কাহিনি। তিন বছর ধরে নিয়মিত মেয়েদের পেটাতেন মিখাইল। এর আগে স্ত্রীকে নির্যাতন করে বাড়ি থেকে বের করে দেন তিনি। মায়ের সঙ্গে মেয়েদের যেতে দেননি। নানা ধরনের মানসিক নির্যাতন চলত মেয়েগুলোর ওপর। এমনকি তিন মেয়ের ওপরই যৌন নির্যাতন চালাতেন মিখাইল। এসব নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে মেয়েরা এই পথ বেছে নেন।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, মেয়ে তিনটি স্বেচ্ছায় তাঁদের বাবাকে হত্যা করেননি। বছরের পর বছর বাবার হাতে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়ে তাঁরা এমন পথ বেছে নেন।