আন্তর্জাতিক ১৯ ডিসেম্বর, ২০২২ ০৭:১৭

স্ত্রীকে হত্যা করে ৫০ টুকরা করল স্বামী

রুবিকা পাহাদিন

রুবিকা পাহাদিন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারতের সাহিবগঞ্জে রাজ্যের  ২২ বছর বয়সী এক আদিবাসী তরুণীকে খুন করে দেহ প্রায় ৫০ টুকরা করে শহরের বিভিন্ন স্থানে ছড়ানোর অভিযোগ উঠছে তারই স্বামীর বিরুদ্ধে।  এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ইতিমধ্যেই ওই তরুণীর স্বামীকে আটক করেছে পুলিশ।

ঝাড়খণ্ড পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, নিহত ওই তরুণীর নাম রুবিকা পাহাদিন। তার স্বামীর নাম দিলদার আনসারি। তবে অভিযুক্তর দাবি, তিনি খুন করেননি। তার অনুপস্থিতির সুযোগে বাড়ির লোকজন রুবিকাকে খুন করে ঘটনা ধামাচাপা দিতে দেহ টুকরা করেছে।

পুলিশ আরও জানায়, শনিবার সন্ধ্যায় বোরিয়ো সাঁওতালি এলাকার একটি নির্মাণাধীন অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের পিছন থেকে একটা কাটা পা উদ্ধার করা হয়। এর সূত্র ধরেই তদন্ত শুরু করে পুলিশ। পরে অভিযুক্তের বাড়ির কাছে বস্তাবন্দি অবস্থায় রুবিকার দেহের ১৮ টুকরো উদ্ধার করা হয়। বাকী টুকরাগুলোর খোঁজ চলছে স্নিফার ডগ দিয়ে। উদ্ধার হওয়া দেহের টুকরাগুলো ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

সাহিবগঞ্জ জেলার এসপি অনুরঞ্জন কিসপোত্তা জানান, নিহত তরুণী আদিম পাহাড়িয়া উপজাতির। অন্যদিকে অভিযুক্ত একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের। গত দুই বছর ধরে তারা একসাথে বসবাস করছিলেন।

এসপি অনুরঞ্জন কিসপোত্তা আরও জানান, মাস খানেক আগে দুই পরিবারের অমতে দিলদারের সঙ্গে বিয়ে হয় রুবিকার। ফলে জাতিগত বিরোধের কারণেও হত্যার বিষয়টা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। রুবিকা অভিযুক্ত দিলদারের দ্বিতীয় স্ত্রী। দিলদারের প্রথম স্ত্রীও এই বিয়ে মেনে নিতে পারেননি। এ কারণেও তাকে হত্যা করা হতে পারে।

এদিকে আদিবাসী নারী খুনের ঘটনায় হেমন্ত সোরেন সরকারকে দায়ী করেছে বিজেপি। দলটির মুখপাত্র প্রতুল শাহদেব বলেন, দিলদার আনসারি সম্প্রতি এই নিরীহ আদিবাসী মেয়েটিকে ফাঁদে ফেলে বিয়ে করেছিলেন। হেমন্ত সরকারের আমলে মেয়েদের প্রতি অত্যাচার বেড়েছে। সংখ্যালঘু সমাজের কিছু হতাশ মানুষ প্রতিনিয়ত মেয়েদের টার্গেট করছে। কিন্তু সরকার কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

প্রতুল শাহদেব  আরও বলেন, সরকার সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ না নিলে আমরা রাজপথে নেমে সরকারকে যোগ্য জবাব দেব।

আমাদেরকাগজ/ এইচকে