স্পোর্টস ডেস্ক ।।
২০১৩ সালে প্রেমিকা আয়েশা সিদ্দিকাকে বিয়ে করেন তামিম ইকবাল। দুজনের সুখের সংসার আর আলোকিত করেছে একমাত্র সন্তান আরহাম। কিন্তু জাতীয় দলের তারকা ক্রিকেটার হয়ে ওঠার আগে প্রেম করতে গিয়ে বহু ঝামেলা পোহাতে হয়েছে তামিমকে। ভালোবাসার জন্য যা যা করে সবই করেছেন, এমনকি চুরি!
ধনী পরিবারের ছেলে হলেও বাবা ইকবাল খান মারা যাওয়ার পর ভাই নাফিস ইকবালের কাছ থেকেই আসতাে তামিমের পকেট খরচের টাকা। আর তাই প্রেমিকার জন্য গিফট কিনতে নিজের বাড়িতে চুরি করতে হয়েছে তাকে।
আরো পড়ুন: নেইমারকে নিয়ে আবারও উত্তাল সোশ্যাল মিডিয়া(ভিডিও)
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তামিম ইকবাল নিজের ছোটবেলা, বেড়ে ওঠা, ক্রিকেটার হয়ে ওঠা এবং পারিবারিক জীবন নিয়ে কথা বলেছেন।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের সম্পর্ক রক্ষা করাটা কঠিন ছিল। বেশিরভাগ সময় সম্পর্কটা অনেক বেশি দূর থেকে রক্ষা করতে হতাে। ওদের পরিবার আমার ওপর খুশি ছিল না। কথা বলার সুযােগও তাই খুব একটা পেতাম না। ওর সঙ্গে একজন বডিগার্ড থাকত, সেটাও আমাকে পাহারা দিতে। আমি তবু সুযােগের অপেক্ষায় থাকতাম। স্কুলে বা কোনাে একটা কোচিংয়ে গিয়ে যদি ৫ মিনিট দেখা করে আসতে পারি। শুরুতে আমরা একই স্কুলে পড়লেও সম্পর্ক হওয়ার পর মাত্র তিন-চার মাস পর্যন্ত স্কুলে দেখা করতে পেরেছি আমরা। যখনই বিষয়টা জানাজানি হলে, আয়েশার স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেওয়া হলো। পরে তারে মালয়েশিয়ায় পাঠিয়ে সেখানকার স্কুলে পড়ানো হলো তাকে। ঘটনাটি ঘটল আমার কারণেই। এমন মনে হয়, হয়তো এটা ঠিক ছিল। ক্লাস এইটের মেয়ের প্রেম-ভালোবাসা করবে, এটা কে পছন্দ করবে! কোন পরিবারই পছন্দ করবে না। কিন্তু তাতে আমার অবস্থা আরও খারাপ হলাে। ওই সময়ে ১ মিনিটের ফোন খরচ ছিল ২৫ টাকা। আর আমি তাকে তখন টাকা পয়সা তেমন উপার্জন করতাম না। সেজন্যই ঢাকা টু মালয়েশিয়া প্রেমের সম্পর্ক রক্ষা করা ছিল খুবই কঠিন।
আরো পড়ুন: কুরআনের হাফেজ যে তিন ক্রিকেটার
যেদিন আয়েশা মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে বিমানে উঠে ঠিক সেদিনই জাতীয় দলে ডাক পান তরুণ তামিম ইকবাল। এর এতে করে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করা আয়েশার সঙ্গে যোগাযোগের উপায় বের হয়ে যায়। তামিম বলেন, আমি যদি আর ছয় মাস পরও জাতীয় দলে ঢুকতাম, আমার পক্ষে অত দূরের সম্পর্ক রক্ষা করা সম্ভব হতো না। বিমান ভাড়ার কথা ভুলে যান, ফোনে কথা বলার জন্য মিনিটে ২৫ টাকা করে কে দেবে!
এর আগে নিজের ঘরে তাকে চুরি পর্যন্ত করতে হয়েছে বলে রসিকতা করছেন তামিম। তার ভাষায়, টাকার জন্য এই সময় আমি চুরি করেছি। এসব তো অনেকেই জানে না (হাসি)।
একবার আমি আমার বোনের মোবাইল ফোন চুরি করে বিক্রি করেছি, ওই টাকা দিয়ে আয়েশাকে গিফট কিনে দেওয়ার জন্য। সেটটা আমি ৮ হাজার টাকায় বিক্রি করে ৩ হাজার টাকায় আয়েশার জন্য একটা পারফিউম কিনি। ৪ হাজার টাকার মোবাইলের কার্ড কিনেছিলাম। দেশে কথা বলার জন্য। দেশে তাে তখন ৭-৮ টাকা করে মিনিট ছিল। ফোন চুরির কথা হয়তাে এই সাক্ষাৎকার পড়েই অনেকে জানবে। খালি মােবাইল না, আরও অনেক কিছুই চুরি করেছি জীবনে। বাইরে গিয়ে ডাকাতি করতে পারতাম না। তার চেয়ে বাসায় চুরি করেছিল সবচেয়ে নিরাপদ।
আরো পড়ুন: নগ্ন ছবি পোস্ট করে আলোচনায় নারী ক্রিকেটার (ছবিসহ)
সাক্ষাৎকারে তামিম বলেন, জীবনে তার সবচেয়ে প্রিয় ব্যক্তি তার বাবা ইকবাল খান; যাকে তিনি বাল্যকালেই হারিয়েছেন। এরপর তার সবচেয়ে কাছের বড় ভাই নাফিস ইকবাল।
তামিম জানান, তার বাবা কখনোই তার চাওয়া অপূর্ণ রাখেন না। যেমনটা তিনি করেন তার ছেলে আবরামের সঙ্গে।
আয়েশাকে বিয়ে করার প্রসঙ্গে তামিম জানান, শুরুতে আয়েশার পরিবার তাকে অত্যন্ত অপছন্দ করে। জাতীয় দলে ডাক পাওয়ার পরও তাকে মেনে নিতে পারে না। এ সময় আয়েশার জন্য কোনো বিয়ের সম্বন্ধ আসলে তিনি পাত্র পক্ষের কাছে তার প্রেমের খবর পৌঁছে দিবেন। এভাবে বেশ কয়েকটি বিয়ে ভেঙে দেন। ওই সময় কিছু মিডিয়ায় তাদের প্রেমের খবর প্রকাশ হয়ে যায়। আর তাতেই মেয়েকে তার সঙ্গে বিয়ে দেয়া ছাড়া আর কিছু করার ছিল না আয়েশার পরিবারের।
এখন বিয়ের পর শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে সম্পর্ক কেমন? এমন প্রশ্নের জবাবে তামিম বলেন, অসম্ভব ভালাে সবার সঙ্গেই।
আর আমা'র শাশুড়ির কথা কী বলব, সম্ভবত আমিই ওনার সবচেয়ে প্রিয় মানুষ।






















