অপরাধ ও দুর্নীতি ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০৬:৪২

যেভাবে কোচের যৌন লালসার শিকার সোনাজয়ী সাঁতারু

ডেস্ক রিপোর্ট ।। 

দীর্ঘ ছয় মাস ধরে যৌন হেনস্তার শিকার হচ্ছেন এক কিশোরী সাঁতারু। নিজের কোচই অশ্লীল অশালীন আচরণ করছেন তার সঙ্গে, এমন বিস্ফোরক অভিযোগ এনেছেন ওই কিশোরী।

নিজেই নিজের মোবাইলে কোচের যৌন হেনস্তার ভিডিও ক্যামেরাবন্দি করেছেন। কারণ, সেই ভিডিও তার প্রতি হওয়া দীর্ঘ দিনের অশালীন আচরণের জ্বলন্ত প্রমাণ।

সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করেই সাহায্য চাইলেন প্রতিশ্রুতিমান ওই সাঁতারু। আর  সেই কোচের বিরুদ্ধেই অভিযোগ দায়ের করতে অনীহা দেখায় রিষড়া থানা।   

ফাঁস হওয়া সেই ভিডিওতে পরিষ্কার দেখা যায়, আগে থেকেই ঘরের একটি জায়গায় ভিডিও রেকর্ডার অন করে মোবাইল রেখে দিচ্ছেন ওই কিশোরী। তারপর ঘরের দরজার দিকে এগিয়ে যান তিনি। খোলা দরজা দিয়ে এরপর ওই কোচকে ঢুকতে দেখা যায়। কিশোরীর ডান পায়ে ক্রেপ ব্যান্ডেজ বাঁধা। কোচ এসে প্রথমে সেই চোটের জায়গাটা দেখলেন। তারপর নানা ভাবে কিশোরীর সারা গায়ে, গোপনাঙ্গে স্পর্শ করলেন। কিছুক্ষণ বাদে তিনি ঘর ছেড়ে বেরিয়ে যান। এরপর যথারীতি মোবাইলের ভিডিও রেকর্ডার অফ করে দেন কিশোরী।  

কিশোরীর বাবা জানিয়েছেন, তার মেয়ে বর্তমানে হতাশার শিকার। অবসাদগ্রস্থ হয়ে পড়েছেন হেনস্তার শিকার হওয়া ওই সাতারু। কারো সঙ্গে কথা বলাও প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে।

অন্য একটি ভিডিওতে ওই কিশোরী সাঁতারুকে বলতে শোনা যায়, ‘গোয়ায় আসার পর থেকেই স্যার আমার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করছিলেন। প্রতিবাদ জানালে কাউকে বলতে নিষেধ করতেন। ভয় দেখাতেন আমার কেরিয়ারের ভবিষ্যৎ নিয়ে। ভয়ে কাউকে কিছু বলতাম না। কিন্তু, এই নোংরামি আমার পক্ষে আর সহ্য করা সম্ভব হচ্ছিল না। তাই সব কিছু ফাঁস করার সিদ্ধান্ত নিই। এখন সাহায্য চাইছি।’
 
এ ব্যাপারে চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের ডেপুটি কমিশনার জানান, রিষড়া থানাকে ঘটনার কথা জানিয়েছি। ওই কিশোরী যদি অভিযোগ জানাতে চান, তা হলে তিনি যেন রিষড়া থানায় যান। তার অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করা হবে। কেন থানা প্রথমে অভিযোগ নেয়নি, সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।