অপরাধ ও দুর্নীতি ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১০:৫২

অনলাইনে জুয়া: সর্বস্ব হারাচ্ছে ঢাকার উঠতি বয়সীরা

ইমরান রহমান।।

ঢাকা শহরে অবৈধ ক্যাসিনোর বিরুদ্ধে র‍্যাবের অভিযান চলছে। এসব ক্যাসিনোতে প্রতিদিন লেনদেন হতো শত শত কোটি টাকা। অনেকেই খুইয়েছেন নিজের সর্বস্ব। আর এদিকে উঠতি বয়সীরা আকৃষ্ট হয়ে পড়ছে অনলাইন জুয়ায়।

ঢাকার বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা অনলাইনে বিভিন্ন সাইটে জুয়া খেলে হারাচ্ছে সর্বস্ব। এমনও দেখা গেছে যে, জুয়া খেলে সব টাকা হারিয়ে তারা ভার্সিটির টিউশন ফী দিতে পারছে না। 

মূলত অনলাইনে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্রদের মাঝে যেসব জুয়া বাংলাদেশে জনপ্রিয় তা হলো স্পোর্টস বেটিং। বিভিন্ন খেলাধুলা নিয়ে জুয়াড়িরা অনলাইনে জুয়া খেলে। এর আর্থিক লেনদেনও হয় অনলাইনে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন জুয়াড়ি বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জুয়াড়িরা নেটেলার ব্যাবহার করতো। কিন্তু বর্তমানে নেটেলার বন্ধ থাকায় তারা অনলাইনে বিভিন্ন ফ্রীল্যান্সারের কাছ থেকে ডলার কেনে। এমন কি নিজেরাও ডলার বিক্রয় করে। যেখানে এক ডলারের ক্রয় মূল্য আনুমানিক ৮৪ টাকা। সেখানে অনলাইন বেটিং এর জন্য ডলার বিক্রয় হয় গড়ে ১০০ টাকায়। বড় কোন টূর্নামেন্টে এই দাম ১১০ টাকায়ও ঠেকে।

আরো একজন জুয়াড়ির সাথে কথা বললে তিনি বাজি ধরার প্রক্রিয়াটা জানান। অনেক সাইট আছে যেখানে রেজিষ্ট্রেশন করতে হয়। তবে বাংলাদেশ থেকে এসব সাইট বিটিআরসি থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে জুয়াড়িদের ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্কের আশ্রয় নিতে হয়। ক্রিকেটের ক্ষেত্রে দেখা যায় যে সেখানে বিভিন্ন রকম বাজি রয়েছে। ম্যাচের ফলাফল থেকে শুরু করে, প্রত্যেক বল নিয়ে, এমন কি টস নিয়েও বাজি ধরা হয়। সব ধরনের খেলায় জুয়ার সুযোগ থাকলেও বাংলাদেশে ক্রিকেটই বেশি জনপ্রিয়। তবে ইউরোপের বিভিন্ন ফুটবল লীগ চলার সময়ও জুয়াড়িদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা যায়।

একজন সাবেক জুয়াড়ি তার জীবনের অভিজ্ঞতা বলতে গিয়ে জানান যে, যখন তিনি জুয়ায় আসক্ত হয়ে পড়েন তখন তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। প্রথম দিকে তিনি খুব সফলতা পেতে থাকেন। এরফলে তার বাড়ি থেকে পাঠানো বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফী দিয়ে বাজি ধরে হেরে যান। পর পর দুইবার পরাজয়ের কারনে তার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের মূল্যবান আটটি মাস হারান।

আমাদের কাগজের অনুসন্ধানে ফুটে উঠেছে যে বিটিআরসির বিভিন্ন পদক্ষেপের কারনে অনলাইন জুয়া এখন অফলাইনে চলে এসেছে। তারাই এখন নিজেদের মাঝে  নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। যেখানে তারা বাজি ধরেন ৫০০ টাকা থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত। 

তবে আশার কথা এই যে, অনেকেই নিজের ভুল বুঝতে পেরে জুয়ার জগত থেকে নিজেকে সরিয়ে নিচ্ছেন। কিন্তু একই সাথে উঠতি বয়সের উত্তেজনায় অনেকে জড়িয়ে যাচ্ছেন এর সাথে। যা সমাজ ও দেশের জন্য এক অশনি সংকেত।