নিজস্ব প্রতিবেদক
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, ‘সিলেটের এমসি কলেজে যে ঘটনা ঘটেছে, এটি একটি বর্বরোচিত ঘটনা। যেই করে থাকুক, তাকে শাস্তি ভোগ করতেই হবে। যাদের নামে এজাহার হয়েছে, তাদের ছয়জনের মধ্যে চারজনকে আমরা গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। বাকি দুজনকে অল্প সময়ের মধ্যে ধরে ফেলতে পারবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।’
সোমবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে কৃষক লীগ আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন,‘পৃথিবীতে অন্যান্য দেশের মতো সমৃদ্ধশালী দেশ আমরা দেখতে চাই। সে ক্ষেত্রে শেখ হাসিনার কোনো বিকল্প নেই। বাংলাদেশের একমাত্র শেখ হাসিনাই ভরসা। ১৯৮১ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে না এলে কারো পক্ষে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হতো না। তিনি এসেছেন বলেই সারা দেশের লোকজন নড়েচড়ে বসেছে দেশের জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন হয়েছে।’
এ সময় মন্ত্রী আরো বলেন,‘আমরা আগেই বলেছি, আমরা কাউকে ছাড় দেই না। সুশাসন প্রতিষ্ঠা করার জন্য যা যা করা প্রয়োজন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অঙ্গীকার বাস্তবায়নে আমরা সেটাই করব।’
গতকাল রোববার সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলা থেকে সাইফুর রহমান এবং হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার মনতলা এলাকা থেকে অর্জুন লস্করকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর গতকাল রাতে এ মামলার আরো দুই আসামি শাহ মো. মাহবুবুর রহমান রনি ও রবিউল ইসলামকে হবিগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। নবীগঞ্জ উপজেলার এক আত্মীয়র বাসা থেকে রবিউলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অপরদিকে একই দিন দিবাগত রাতে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার কচুয়া নয়াটিলা এলাকা থেকে এ মামলায় রাজন নামের আরো এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। তিনি এ মামলার অজ্ঞাতপরিচয় তিন আসামির একজন। রাজনকে আশ্রয় দেওয়া ও সহযোগিতা করায় আইনুল নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়।
এ নিয়ে এই মামলার পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হলো। এর মধ্যে চারজন মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।
জানা গেছে, স্বামীকে নিয়ে ঘুরতে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় এমসি কলেজে গিয়েছিলেন এক গৃহবধূ। এ সময় কলেজ ক্যাম্পাস থেকে পাঁচ থেকে ছয়জন তাঁদের জোরপূর্বক কলেজের ছাত্রাবাসে নিয়ে যান। সেখানে একটি কক্ষে স্বামীকে আটকে রেখে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করেন তাঁরা। পরে ওই গৃহবধূকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় গত শনিবার ওই গৃহবধূর স্বামী বাদী হয়ে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরো তিনজনকে আসামি করে মামলা করেন। মামলার আসামিরা হলেন সাইফুর রহমান (২৮), শাহ মো. মাহবুবুর রহমান রনি (২৫), তারেক (২৮), অর্জুন লস্কর (২৫), রবিউল ইসলাম (২৫) ও মাহফুজুর রহমান মাছুম (২৫)। তাঁদের মধ্যে সাইফুর রহমান বালাগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা, রনির বাড়ি হবিগঞ্জে, তারেক সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার বাসিন্দা, অর্জুনের বাড়ি সিলেটের জকিগঞ্জে, রবিউলের বাড়ি সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় আর মাহফুজুর রহমান মাছুমের বাড়ি সিলেটের সদর উপজেলায়।
অভিযোগ উঠেছে, মামলার এই ছয় আসামি ছাত্রলীগের কর্মী। এ বিষয়ে ওসি আবদুল কাইয়ুম জানান, মামলায় ছয়জনকে সরাসরি জড়িত বলে আসামি করা হয়েছে। তবে মামলার এজাহারে তাঁদের ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। অন্য তিনজনের বিরুদ্ধে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে।
এর আগে অভিযান চালিয়ে মামলার আসামি এম সাইফুর রহমানের কক্ষ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ। গত শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে সাইফুরের কক্ষ থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র, চারটি রামদা, একটি ছোরা ও জিআই পাইপ উদ্ধার করা হয়।






















