ডেস্ক রিপোর্ট
প্রায় ৫০ বছরের পুরনো ব্যবসায়িক ঠিকানা কারওয়ান বাজার ছেড়ে চলে যাচ্ছে শুঁটকির আড়ত। সরকারি উন্নয়নকাজে জায়গা ছেড়ে দিয়ে মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ এলাকায় নতুন করে আড়ত বসাতে যাচ্ছেন শুঁটকি ব্যবসায়ীরা। ওখানে বাজার বসবে ১ মার্চ থেকে। এর অন্তত দুই দিন আগেই বন্ধ হয়ে পড়বে কারওয়ান বাজারের এই শুঁটকির বাজার।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, কয়েক দশক ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের হাওড়-বাঁওড়, নদী-নালা, খাল-বিল থেকে সামুদ্রিক; সব মাছের শুঁটকিই পাওয়া যায় এই পাইকারি বাজারে। চাহিদা মেটাতে এখানে শুঁটকি আসে মিয়ানমার, ভারত, পাকিস্তান, দুবাই থেকে। শুঁটকির বেচাকেনাও শুরু হয় সকাল ৬টা থেকে, চলে সন্ধ্যা পর্যন্ত।
দেখা গেল বাজারের এক পাশে বস্তা ও ঝুড়িভর্তি শুঁটকির ওজন দিতে ব্যস্ত একদল কর্মচারী। আরেক দল তা পৌঁছে দিচ্ছে দোকানে, গুদামে ও ট্রাকে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা খুচরা বিক্রেতারা চাহিদামতো কেনাকাটা সরে চলে যান দিনের আলোতেই।
কথা হলো নাটোর থেকে আসা শাহ আলম হোসেনের সঙ্গে। শুঁটকির ব্যবসা তাদের বংশ পরম্পরায়। দাদা মরে যাওয়ার পর তার বাবা; আর এখন বাবাকে সহযোগিতা করতে করতে তিনি নিজেই এখন দেখভাল করেন পারিবারিক এই ব্যবসা। এখানের শুঁটকির মান ভালো। চাহিদামতো সব ধরনের শুঁটকিও মেলে এখানে। তবে, দাম বাড়ছে। আগে তিনি যে ধরনের শুঁটকি কিনতেন ৪শ' থেকে সাড়ে ৪শ' টাকায় এখন তা পড়ছে সাড়ে ৫শ' থেকে ৬শ' টাকা।
শুধু যে শুঁটকি কিনতে এখানে আসেন ব্যবসায়ীরা; তা নয়। অনেকেই আসেন ভিন্ন কিছুর খোঁজেও। তেমনি একজনের সঙ্গে কথা হল; যিনি এসেছেন গাজীপুর থেকে। এই ব্যবসায়ী এখানে আসেন শুঁটকির কুড়া সংগ্রহে। তিনি আগে প্রতিদিন প্রায় ২শ' কেজি করে এই কুড়া সংগ্রহ করতে পারতেন। যা তিনি আবার পৌঁছে দিতেন মাছ ও হাঁস-মুরগির খাবার প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানে। বর্তমানে তার সংগ্রহের পরিমাণ কমে গেছে। এখন তিনি পান করোনার আগের তুলনায় অর্ধেক কুড়া।
এর কারণ জানাতে গিয়ে আড়তের ব্যবসায়ীরা জানান, এখন বিক্রি কম। কারণ, করোনা। আগে যেখানে প্রতি দোকানে গড়ে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকার শুঁটকি বিক্রি হতো; এখন হয় এর অর্ধেক। প্রতিটি দোকানেই রয়েছে শুঁটকির পর্যাপ্ত মজুত। তবে, একই দামে প্রতিদিন বিক্রি হয় না। একটু হলেও ওঠানামা করে দরদামে।
এই আড়তের এক পাশে বেশ কয়েকটি দোকান বসেছে অস্থায়ী দোকানের আদলে। এই বাজারের ব্যবসায়ীদের সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ দুলালের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, আগে এখানে ৬০টির মতো দোকান ছিল। কিন্তু সরকারের যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়ন কাজে (উড়ালসেতু নির্মাণ) তাদের দোকান উচ্ছেদ করা হচ্ছে। তাই এখন এখানে নিয়মিত বসে ৩০ থেকে ৩৫টি দোকান। জানালেন, আগামী ১ মার্চ থেকে মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধে বসবে এই আড়ত। স্থানান্তর কাজে এখন তারা ব্যস্ত। তবে, তারা এক বছরের বেশি সময় ধরে ঘুরলেও ক্ষতিপূরণের টাকা হাতে পাননি।
একই সংগঠনের সভাপতি নজরুল ইসলাম দুলাল জানান, ক্ষতিপূরণের টাকা পেতে তারা দিনের পর দিন ডিসি অফিসে ঘুরছেন। প্রতিবারই আবার যোগাযোগ তারিখ পান; কিন্তু টাকা পান না। তাদের দাবি, যে পরিমাণ টাকা দেয়ার আশ্বাস দেয়া হয়েছে তাদের; তাও খুব কম। এ অবস্থায় তাদের যেতে হচ্ছে নতুন ঠিকানায়। এ জন্য অনেকেরই বদল করতে হবে বাসা। সংশ্লিষ্ট অনেক শ্রমিকই হয়তো ছেড়ে দিতে পারেন পেশা। সেখানে আবার ব্যবসা জমতে কত দিন সময় লাগবে তা জানা নেই তাদের কারও।






















