অর্থ ও বাণিজ্য ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০৪:৫৮

দেশের বাজারে কেজিতে ব্যবধান ১৭

ডেস্ক রিপোর্ট

সয়াবিন তেল ও পাম তেলের দামের ব্যবধান আন্তর্জাতিক বাজারে কেজিপ্রতি চার টাকা। এদিকে দেশের বাজারে কেজিপ্রতি দামের ব্যবধান ১৭ টাকারও উপরে। আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সংগতি রেখে একটি যৌক্তিক দাম নির্ধারণের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশন (বিটিসি)। কিন্তু ব্যবসায়ীরা পণ্যটিতে অতিরিক্ত মুনাফা করছেন ফলে বাড়তি বোঝা চাপছে ভোক্তার ঘাড়েই।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে বর্তমানে প্রতিটন অপরিশোধিত সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ১০০ ডলার। প্রতি ডলারের মূল্য ৮৫ টাকা হিসেবে দেশে টনপ্রতি দাম পড়ে ৯৩ হাজার ৫০০ টাকা বা প্রতি কেজি ৯৩ টাকা ৫০ পয়সা। আর প্রতিটন পাম তেল বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৫০ ডলারে। প্রতি ডলারের মূল্য ৮৫ টাকা হিসেবে দাম পড়ে ৮৯ টাকা ২৫ পয়সা। অর্থাৎ কেজিপ্রতি দামের ব্যবধান চার টাকা।

প্রতি কেজি সয়াবিন তেল পরিশোধনে খরচ পড়ছে সর্বোচ্চ সাত টাকা। এ হিসেবে দেশে প্রতিকেজি সয়াবিন তেলের দাম পড়ে ১০০ টাকার সামান্য কিছু বেশি। দেশের পাইকারি বাজারে প্রতিমণ সয়াবিন তেল (৩৭ কেজি ৩২০ গ্রাম) বিক্রি হচ্ছে চার হাজার ৪৮০ টাকা বা কেজিপ্রতি ১২০ টাকা চার পয়সায়। এ তেল খুচরা পর্যায়ে এখন প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ১২৬ থেকে ১২৮ টাকায়।

আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিটন অপরিশোধিত পাম তেল বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৫০ ডলারে। প্রতি ডলারের মূল্য ৮৫ টাকা হিসেবে প্রতিটনের দাম পড়ছে ৮৯ হাজার ২৫০ টাকা বা কেজিপ্রতি ৮৯ টাকা ২৫ পয়সা। দেশের বাজারে পরিশোধন করতে কেজিপ্রতি খরচ পড়ছে তিন টাকার মতো। এতে প্রতি কেজি পাম তেলের দাম পড়ে ৯২ টাকা ২৫ পয়সা। দেশের পাইকারি বাজারে মণপ্রতি (৩৭ কেজি ৩২০ গ্রাম) বিক্রি হচ্ছে তিন হাজার ৮৫০ টাকা বা কেজিপ্রতি ১০৩ টাকা ১৬ পয়সায়। এ তেল খুচরা পর্যায়ে বিক্রি হচ্ছে ১০৮ টাকায়।

বিটিসি সূত্রে জানা গেছে, যেসব ভোগ্যপণ্য আমদানির ওপর নির্ভরশীল সেগুলোর আন্তর্জাতিক মূল্য ও স্থানীয় বাজারমূল্য পর্যালোচনার কাজ চলছে। আমদানিকারক, পরিবেশক বা পাইকারি পর্যায়ে কেমন দামে বিক্রি হচ্ছে, তার তথ্য নেয়া হবে। ব্যবসায়ীরা যৌক্তিক মুনাফা করছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে এবং সে অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে বিটিসির এক কর্মকর্তা এই প্রতিবেদককে জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ পাইকারি ভোজ্যতেল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী ভুট্টো বলেন, দুই সপ্তাহ আগে পরিবেশক পর্যায়ে প্রতিমণ সয়াবিন তেলের দাম ছিল চার হাজার ৪২০ টাকা। গতকাল তা বিক্রি হয়েছে চার হাজার ৪৮০ টাকায়। মণপ্রতি দাম বেড়েছে ৬০ টাকা। আর দুই সপ্তাহ আগে প্রতিমণ পাম তেলের দাম ছিল তিন হাজার ৭০০ টাকা। গতকাল তা বিক্রি হয় তিন হাজার ৮৫০ টাকায়। মণপ্রতি বাড়তি ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত সয়াবিন ও পাম তেলের টনপ্রতি ব্যবধান মাত্র ৫০ ডলার।

রাজধানীর খুচরা ভোজ্যতেল ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারে দামের কোনো আগামাথা নেই। যে যার মতো মূল্যে তেল বিক্রি করছেন। যেসব পরিবেশক সরাসরি তেলকল থেকে তেল আনছেন, তারা বেশি মুনাফা করছেন। আর যেসব পরিবেশক শুধু বিক্রয় আদেশ (এসও) বিক্রি করছেন, তারা সামান্য লাভেই হাতবদল করছেন।

রাষ্ট্রায়ত্ত বিপণন সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাব অনুযায়ী, গতকাল প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হয়েছে ১১৬ থেকে ১২০ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগে বিক্রি হয়েছিল ১১২ থেকে ১১৬ টাকায়। এক সপ্তাহে লিটারপ্রতি দাম বেড়েছে চার টাকা। আর পাঁচ লিটারের বোতল গতকাল বিক্রি হয়েছে ৫৮০ থেকে ৬৩০ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৫৭০ থেকে ৬২০ টাকা। তবে পাম তেলের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশে সারা বছর ভোজ্যতেলের চাহিদা রয়েছে ১৮ লাখ টন। তবে শুধু রমজান মাসেই প্রয়োজন হয় ছয় লাখ টন। এসব তেল মূলত সিটি, মেঘনা, এস আলম, টিকে, বসুন্ধরা, এসিআই ও বিইওএল কোম্পানি আমদানি করে চাহিদা পূরণ করছে। দেশে ভোজ্যতেলের দাম ওঠানামা মূলত তাদের ওপরই নির্ভর করছে।

 

সূত্র: শেয়ার বিজ