নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রতিদিন একটি ডিম, পুষ্টিময় সারাদিন' এপ্রতিপাদ্য নিয়ে পালিত হচ্ছে এবারের ডিম দিবস। আমিষের চাহিদা পূরণে ডিমের কোন তুলনা হয় না।ডিম খেতে কোনো বয়স লাগে না। জন্মের আগে থেকেই মায়ের শরীরের পুষ্টি চাহিদা পূরণের মধ্য দিয়ে ডিমের কার্যকারিতা শুরু হয়।
এরপর জীবনের প্রতিটি ধাপেই মানুষের দরকার হয় ডিমের পুষ্টি। শৈশব, কৈশর, যৌবন এবং জীবনের বাকিটা সময় শরীরের জন্য মূল্যবান অত্যাবশ্যকীয় আমিষের চাহিদা পূরণে ডিমের কোনো তুলনা হয় না। ডিমকে যদি সঠিকভাবে প্রমোট করা যায় এবং দেশের আপামর মানুষ যদি পরিমাণ মতো ডিম খায়, তবে দেশের অপুষ্টির চিত্রটা পুরোপুরি পাল্টে ফেলা সম্ভব। ভিটামিন ও মিনারেলে সমৃদ্ধ এমন একটি প্রাকৃতিক আদর্শ খাবার পৃথিবীতে খুব কমই আছে।
আজ ডিম দিবস। দেশে গত ১২ বছরে ডিমের উৎপাদন বেড়েছে ৩০৭ শতাংশেরও বেশি। অব্যাহত উৎপাদন বৃদ্ধির ফলে বর্তমানে ডিমের বাৎসরিক প্রাপ্যতা বেড়ে হয়েছে মাথাপিছু ১৩৬টি। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের হিসাব মতে, ২০২০-২১ অর্থবছরে মাথাপিছু ডিম খাওয়ার সংখ্যা ছিল ১২১টির অধিক। বর্তমানে যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩৬টিতে। সুস্থ থাকার জন্য প্রতিটি মানুষের বছরে নূন্যতম ১০৪টি ডিম খাওয়া প্রয়োজন।
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) তথ্য অনুযায়ী, তিন দশকে বিশ্বে ডিমের উৎপাদন প্রায় ১৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০০৯-১০ সালে বাংলাদেশে ডিমের উৎপাদন ছিল ৫৭৪ দশমিক ২৪ কোটি। ২০২১-২২ অর্থবছরে এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৩৩৫ দশমিক ৩৫ কোটিতে। জানা গেছে, ডিমের বৈশ্বিক উৎপাদনে এশিয়া মহাদেশ বেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে। বিশ্বের সর্বাধিক সংখ্যক ডিম উৎপাদনকারী দেশ চীন। গত দশকের তুলনায় এই দশকে ডিমের উৎপাদন ২৪ শতাংশ বেড়েছে। ২০১৯ সালে ডিমের উৎপাদন ছিল ৮৩ মিলিয়ন টন, যা ২০০০ সালে উৎপাদিত ডিমের চেয়ে প্রায় ৬৩ শতাংশ বেশি।
১৯৯৬ সালে অনুষ্ঠিত আইইসি ভিয়েনা কনফারেন্স থেকে দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে বিশ্বব্যাপী চলছে একটি ইতিবাচক ক্যাম্পেইন। যার মধ্য দিয়ে বিশ্বের মানুষের পুষ্টি চাহিদা পূরণে ডিমের প্রয়োজনীয়তার বার্তাটি সবার কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। প্রতি বছর অক্টোবরের দ্বিতীয় শুক্রবারে বিশ্বজুড়ে উদযাপন হচ্ছে ‘বিশ্ব ডিম দিবস’। এবারের ডিম দিবসের প্রতিপাদ্য ‘প্রতিদিন একটি ডিম, পুস্টিময় সারাদিন’।
ইন্টারন্যাশনাল এগ কমিশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২০ সালে চীনে মাথাপিছু ডিম খাওয়ার পরিমাণ ছিল ২৫৫টি এবং ভারতে ৭৬টি। সেখানে বাংলাদেশের প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য মতে, ২০২০ সালে বাংলাদেশে মাথাপিছু ডিম খাওয়ার পরিমাণ ছিল ১০৪.২৩টি।
আমাদের কাগজ//টিএ






















