অর্থ ও বাণিজ্য ১৯ আগস্ট, ২০২৩ ১২:১৪

সবজির বাজারে আগুন 

ছবি - সংগৃহীত

ছবি - সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ১০ টাকা শাকের আঁটি এখন ৩০-৫০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। আদা-পেঁয়াজ-রসুনের দাম ৪-৫ দিনে ৫০-৬০ টাকা বাড়ল ১০০ টাকার নিচে কোনো গ্রীষ্মকালীন সবজি নেই। ২০০ টাকার নিচে কোনো মাছ পাওয়া যাচ্ছে না ।গরু-মুরগি তো গরিব-মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে। 

সরকারিভাবে দাম কমানো হলেও দেশের বৃহৎ ভোগ্যপণ্যের বাজার কারওয়ান বাজারে আজ (শনিবার) কোথাও এর প্রভাব নেই বললেও চলে। 

শুধু তাই নয়, সরকার নির্ধারিত দামে মিলছে না চিনি ও ভোজ্যতেল। আগের মতো বেশি দামেই বিক্রি হচ্ছে এসব পণ্য। 

এদিকে ব্যাবসায়ীরা বলছেন, ভারি বর্ষণের প্রভাবে সবজির দামে আগুন। প্রতি কেজি ৭০ টাকার কমে কোনো সবজিই পাওয়া যাচ্ছে না। এছাড়া বেশিরভাগ নিত্যপণ্যের দামও আকাশচুম্বী। এদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, তারা আগের কেনা চিনি ও ভোজ্যতেল বিক্রি করছেন। ভোক্তাদের অভিযোগ, প্রশাসনের তদারকির অভাবে সরকারের নির্দেশনা মানছেন না অসাধু ব্যবসায়ীরা।

সাধারণ ক্রেতাদের অভিযোগ-সরকার দাম বাড়ালে ব্যবসায়ীয়রা মিনিটের মধ্যে কার্যকর করে। আর দাম কমালে দিনের পর দিনও কার্যকর হয় না। সরকার নির্ধারিত দাম কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকে। নির্ধারিত দাম বাজারে কার্যকর হয়েছে কিনা তা যাচাই-বাছাই করারও কেউ নেই। সাধারণ মানুষ অসহায় অসাধু ব্যবসায়ীদের কাছে। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, কাঁচামাল তারা যা দিয়ে কিনেন।তার চেয়ে সামান্য লাভে বিক্রি করেন তারা । 

রাজধানীর রায়ের বাজারে দাম বেড়েছে ভোগ্যপণ্যেরও। খুচরা বাজারে ভালো মানের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭৫-৮০ টাকা কেজি। আর নিম্নমানের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫৮-৬০ টাকা। পেঁয়াজের বাজার ১ মাসে কখনো ২ বার আবার কখনো এর দাম ওঠা নামা করে।  বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৮০ টাকা দরে। 

বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শুক্রবার প্রতি কেজি আমদানি করা রসুন বিক্রি হয়েছে ২৩০-২৩৫ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগে ২১০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। পাশাপাশি প্রতি কেজি দেশি হলুদ বিক্রি হচ্ছে ৩৪০ টাকা, যা সাত দিন আগে ৩০০ টাকা ছিল। আর আমদানি করা হলুদ বিক্রি হয় ২৫০ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগে ২৩০ টাকা ছিল। পাশাপাশি প্রতি কেজি দেশি আদা বিক্রি হয়েছে ১৮০ টাকা ও আমদানি করা আদা ২২০ টাকা, আর প্রতি কেজি শুকনো মরিচ ৪৫০-৫০০ টাকা বিক্রি হয়।

ইসলাম নামের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এক বেক্তি বলেন, মাসে যা বেতন পাই তার অর্ধেকের বেশি বাজার খরভেই চলে যায়। তিনি বলেন, এখন পরিবারের চাহিদার চেয়ে কম বাজার করে ফিরতে হয় তাকে। 

ডিমের দাম ১২ টাকার বেশি রাখা না হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এমন নির্দেশনা থাকলেও তা কেউ মানছেন না। নগরীর খুচরা বাজারে প্রতি হালি ডিম বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকা। সে ক্ষেত্রে প্রতি পিস ডিমের দাম হয় ১৩ টাকার বেশি।

শরিফ নামের আরেক বেক্তি জানান, 'আমার ৪ জনের সংসার। এখন বাসায় মেহমান আসলে ভয় লাগে'। এক হাজার টাকা নিয়ে বাজারে গেলে, চাল,ডাল, মসলাসহ মুরগী পাওইয়া গেলেও মেহমানদের খাওয়ানো যায় না। তিনি বলেন,  আগের তুলনায় এখন রোজ সীমিত আকারে বাজার সেরে বাসায় ফিরতে হয় তাকে। 

প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হয় ৭৮০-৮০০ টাকা। পাশাপাশি প্রতি কেজি পাঙাশ ২২০-২৫০ টাকা ও তেলাপিয়া প্রতি কেজি বিক্রি হয় ২৫০ টাকা। প্রতি কেজি রুই মাছ বিক্রি হয় ৪৫০-৫০০ টাকা। আর প্রতি কেজি আইড় মাছ ৮০০ টাকা, দেশি ছোট চিংড়ি মাছ ৮০০-৯০০ টাকা, কাঁচকির গুঁড়া ৫০০-৬০০ টাকা বিক্রি হয়। আধা কেজি থেকে এক কেজি ওজনের ইলিশ ১৪০০ টাকা থেকে ১৬০০ টাকা এবং এক কেজির চেয়ে কিছুটা কম ওজনের প্রতি কেজি ইলিশ ১১০০-১২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

আমাদেরকাগজ/এমটি