অর্থ ও বাণিজ্য ২৭ অক্টোবর, ২০২৩ ০১:০৮

বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে ডিম-আলু-পেঁয়াজ

আমাদের কাগজ ডেস্ক: সরকারের বেঁধে দেওয়া দামে মিলছে না নিত্য পণ্য। উল্টো, বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে ( ডিম-আলু-পেঁয়াজ, সয়াবিন ও চিনি) এ সব পণ্যগুলো।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক নির্দেশনায় প্রতি পিস ডিমের দাম ১২ টাকা, প্রতি কেজি আলু ৩৫ থেকে ৩৬ টাকা এবং ৬৫ টাকা দরে প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রির নির্দেশনা দেওয়া হয়। কিন্তু সরকারের এ নির্দেশনা কেউই মানছে না। উল্টো দাম বাড়িয়ে বিক্রি করা হচ্ছে এ পণ্যগুলো।

ভোক্তাপর্যায়ে ডিম-আলু-পেঁয়াজ, সয়াবিন ও চিনির দাম এখন অসহনীয়। লাগামহীন নিত্যপণ্যের বাজার, হাঁপিয়ে উঠছেন ক্রেতারা

শুক্রবার (২৭ অক্টোবর) রাজধানীর বাসাবো, রায়ের বাজারের কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ ১১০ টাকা এবং ভারতীয় পেঁয়াজ ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি পিস ডিমের দাম রাখা হচ্ছে ১৫ টাকা। ডিমের মান ও সাইজভেদে প্রতি হালি ডিম কিনতে গুনতে হচ্ছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা। 

এদিকে খুচরাপর্যায়ে ৩৫ টাকা কেজি দরে আলু বিক্রির নির্দেশনা থাকলেও তা উপেক্ষা করে ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি আলু। পরিশোধিত খোলা চিনি কেজিপ্রতি ১৫ টাকা বাড়িয়ে বিক্রি করা হচ্ছে ১৪৫ টাকায়। প্যাকেটজাত চিনি ১৩৫ টাকা কেজিতে বিক্রির কথা থাকলেও কেজিপ্রতি ২৫ টাকা বাড়িয়ে ১৬০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।

বাজার ঘুরে আরও দেখা গেছে, সরকারি নির্ধারণকৃত দামের থেকেও কেজি প্রতি ২৬ টাকা বাড়িয়ে সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকায়।বাজারে সব কিছুর লাগামহীন দামের কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন ক্রেতারা। তাদের অনেকেই বাজারের এই অবস্থার জন্য সরকারকে দুষছেন কেউ কেউ।

বাজারে আসা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা জানান, সরকার যেন কিছুই করতে পারছে না। সরকার কি দাম বেঁধে দিল আর দিল না সে অপেক্ষায় কি ব্যবসায়ীরা থাকেন? দাম বাড়ালে এরা মুহূর্তেই দাম বাড়িয়ে বিক্রি করেন, কিন্তু দাম কমালে এরা কমায় না। কিছুতেই যেন সিন্ডিকেট দমন করা যাচ্ছে না। 

রিনা বেগম নামের আরেক ক্রেতা বলেন, আগে বেশি কিনতাম এখন কম কিনি। লিস্ট নিয়ে আর বাজারে আসেন না বলে দাবি করেন তিনি।  

তিনি আরও বলেন, আমরা চাই সরকার একটি কার্যকর ভূমিকা পালন করুক। যেভাবে বিচ্ছিন্ন মনিটরিং এবং অভিযান পরিচালনা করেন এতে কিছুই হচ্ছে না। সিন্ডিকেটের হোতাদের ধরতে হবে। তাহলেই সাধারণ মানুষ খেয়ে বাঁচতে পারবে। 

সরকার নির্ধারিত বেঁধে দেওয়া দামে ডিম বিক্রি হচ্ছে না কেন জানতে চাইলে ডিম বিক্রেতা ফারুক বলেন, আমরাই প্রতি পিস ডিম ১২ টাকা ৫০ পয়সায় কিনে আনি। এসব ডিমের কয়েকটি ভেঙে বা নষ্ট হয়ে যায়। ফলে ১৫ টাকার নিচে বিক্রি করা সম্ভব হয় না। 

আরেক ব্যাবসায়ী জানান, ১৫৫ টাকা ডিমের ডজন কিনে কিছু তো লাভ করতেই হবে। আমরা যদি কম দামে কিনতে পারতাম তাহলে কম দামে বিক্রি করতে পারতাম। আমাদের হাতে আসলে কিছুই নেই। 

পেঁয়াজ ব্যাবসায়ীরা বলছে, পাইকারি বাজারে ১০০ টাকা কেজিতে দেশি পেঁয়াজ কিনে ১০ টাকা লাভে ১১০ টাকা কেজিতে বিক্রি করে তাঁরা। 

ব্যাবসায়ীদের অভিযোগ, যারা মাল মজুত করে রাখে তারাই দাম বৃদ্ধি করে। 

আমাদের কাগজ/এমটি