অর্থ ও বাণিজ্য ১০ ডিসেম্বর, ২০২৩ ০১:৩০

বিপাকে পেঁয়াজ বিক্রেতারা, বাড়াতে কমেছে বিক্রি

আমাদের কাগজ ডেস্ক: খুচরা বাজারে কমেছে পেঁয়াজ বিক্রি। এইত দুইদিন আগেও পেঁয়াজের দাম ছিলো ৮০ থেকে ১০০ টাকা। তবে হঠাৎ হু-হু করে দাম বাড়াতে বিপাকে পেঁয়াজ বিক্রেতারা। ডাবল সেঞ্চুরি পার করে ২৪০ পর্যন্ত ঠেকা পেঁয়াজের বিক্রি কমেছে খুচরা বাজারে। 

খোদ খুচরা বিক্রেতারাই বলছেন, আগে যেখানে পাড়া মহল্লার দোকানে দিনে ৩০/৪০ কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হতো, সেখানে দাম বেড়ে যাওয়ার পর এখন ১৫/২০ কেজি পেঁয়াজ বিক্রি করাই কঠিন হয়ে গেছে।

বৃহস্পতিবার ৭ ডিসেম্বর, ভারতের ডিরেক্টর জেনারেল অব ফরেন ট্রেড (ডিজিএফটি) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছিল, অভ্যন্তরীণ বাজারের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে তারা আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত পেঁয়াজ রপ্তানি করবে না। এর আগে, গত ২৯ অক্টোবর ভারত প্রতি টন পেঁয়াজের রপ্তানি মূল্য ৮০০ ডলার নির্ধারণ করে দেয়, যা ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বলবৎ থাকবে বলা হয়েছিল। তার আগেই দেশটি পেঁয়াজ একেবারে রপ্তানি বন্ধ করে দিল।

এর আগে ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা শুক্রবার ৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশের গণমাধ্যমে প্রচারিত হলে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দাম হুহু করে বাড়তে থাকে। 

ফলে রোববার এসে খুচরা বাজারে দেশি পেঁয়াজের কেজি দাঁড়ায় ২২০ থেকে ২৪০ টাকা।

রাজধানীর রায়ের বাজারের মুদি দোকানি ফরিদুল ইসলাম বলেন, বেশিরভাগ দোকানেই আগের পেঁয়াজ ছিল কিন্তু বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে পেঁয়াজের দাম বাড়ার খবর পেলে খুচরা ব্যবসায়ীরা আগের কম দামে কেনা পেঁয়াজেরও দাম বাড়িয়ে দেয়। কিন্তু আমাদের মত অনেক ব্যবসায়ী যারা নতুন করে বেশি দামে পেঁয়াজ কিনে এনেছি, তারা বেশি দামেই বিক্রি করছি। কিন্তু অন্যরা আগের কম দামে কেনা পেঁয়াজই বেশি দামে বিক্রি করছে।

ব্যাবসায়ীরা জানান, গত বৃহস্পতিবার দেশি পেঁয়াজ ছিল ১৩০ টাকা আর ভারতীয় পেঁয়াজ ছিল ১১০ টাকা কেজি। সে পেঁয়াজ রোববারে এসে দেশিটা ২২০ থেকে ২৪০ আর ভারতীয় পেঁয়াজ ২০০ থেকে ২২০ টাকা হয়েছে। ফলে ২ দিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কেজিতে বেড়েছে ১০০ টাকার বেশি। পেঁয়াজের দাম আকাশচুম্বী হওয়ায় কেনার আগ্রহ হারিয়েছে ক্রেতারা। 

সবমিলিয়ে আগের চেয়ে পেঁয়াজ বিক্রি অনেক কমে গেছে। আগে যে ক্রেতা ২ কেজি পেঁয়াজ নিতো সে ক্রেতাই এখন আধা কেজি, এক কেজি করে পেঁয়াজ নিচ্ছে।