নিজস্ব প্রতিবেদক
কর্মজীবনের শুরুটা শিক্ষকতা দিয়ে হলেও এখন তিনি দায়িত্ব পালন করছেন পুলিশের এসএসপি হিসেবে। তবে পুলিশ হয়েও আগের সেই শিক্ষকতা জীবনকে তিনি ভুলতে পারেননি। পুলিশের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি প্রতিদিনই তাকে দাঁড়াতে দেখা যায় শিক্ষকের ভূমিকায়। পথেঘাটে দিনরাত ঘুরেঘুরে আইন অমান্যকারী যানবাহনের চালক-সহকারীদেরকে ট্রাফিক আইনের পাঠসহ প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ প্রদান করেন তিনি। বলা হচ্ছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার রাঙ্গুনিয়া সার্কেল মো. আনোয়ার হোসেন শামীম'র কথা।
অসহনীয় যানজটে জর্জরিত চট্টগ্রাম কাপ্তাই সড়কে আইন অমান্যকারী যানবাহনের চালকদের বিরুদ্ধে মামলাসহ প্রযোজ্য আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি তাদেরকে ট্রাফিক আইন বিষয়ক প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্যে তাঁরই উদ্যোগে মাস দুয়েক পূর্বে প্রতিষ্ঠিত হয় ভ্রাম্যমাণ ট্রাফিক স্কুল।
ব্যতিক্রমী এই স্কুলে ভর্তি হবার প্রক্রিয়াও বিচিত্র। রাস্তায় ট্রাফিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে পুলিশের হাতে ধরা পড়লে তবেই এই স্কুলে ভর্তির সুযোগ মেলে। যানজট সৃষ্টিকারী যানবাহনের চালক ও সহকারীদেরকে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা বুঝিয়ে শ্রেণিকক্ষে এনে হাজির করেন।
অবশ্য ভর্তিপ্রক্রিয়া সম্পন্নের পর ছাত্রদেরকে একটিমাত্র ক্লাসেই অংশগ্রহণ করতে হয়। এক থেকে দেড় ঘন্টাব্যাপী পরিচালিত সেই ক্লাসে ট্রাফিক শৃঙ্খলার গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তার ওপর আলোকপাতের পাশাপাশি দেওয়া হয় সড়ক সচেতনতাবোধের প্রাথমিক পাঠ। হাতেকলমে বুঝিয়ে দেওয়া হয় ট্রাফিক আইনের অতি প্রয়োজনীয় ধারা-উপধারা। ক্লাস শেষে থাকে পরীক্ষা এবং সেখানে ভাল ফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের জন্য থাকে পুরস্কারেরও বন্দোবস্ত। এই স্কুলের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত পাঁচ শতাধিক চালক/সহকারীকে প্রশিক্ষিত করা হয়েছে মর্মে পুলিশ সূত্রে জানা যায়।
এএসপি আনোয়ার হোসেন শামীম বলেন, ভ্রাম্যমাণ ট্রাফিক স্কুল' নামে স্কুল হলেও এটি প্রকৃতপক্ষে আমাদের সচেতনতামূলক কার্যক্রমের একটি পোশাকী নাম। আইন অমান্যকারী চালকদের বিরুদ্ধে মামলা/জরিমানার পাশাপাশি আমরা এই স্কুলের মাধ্যমে তাদেরকে গত দুই মাস ধরে ট্রাফিক আইন সম্পর্কিত প্রাথমিক প্রশিক্ষণ প্রদান করে আসছি। কাপ্তাই সড়ককে ট্রাফিক শৃঙ্খলার দিক থেকে একটি মডেল সড়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার আমাদের যে লক্ষ্য, তার সহায়ক পদক্ষেপ হিসেবেই মূলতঃ এই ভ্রাম্যমাণ ট্রাফিক স্কুলের অভিযাত্রা। সকলের সহযোগিতায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবেই ইনশাআল্লাহ।
ইতিবাচক এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন মালিক ও চালকেরাও। এ প্রসঙ্গে রোয়াজারহাট বাজার সিএনজি অটোরিকশা মালিক-চালক সমিতির সভাপতি নুরুল আজিম মনু বলেন, আমার দীর্ঘজীবনে পুলিশ প্রশাসনের এমন সুন্দর উদ্যোগ এই প্রথম দেখলাম। একটু সময় অপচয় হলেও এই ক্লাসে যেয়ে আমাদের চালকদের অনেক উপকার হচ্ছে। এএসপি সাহেবকে ধন্যবাদ যে, তিনি আমাদের ভালর কথা চিন্তা করে জয়েন (যোগদান) করার পর থেকেই দিনরাত রাস্তায় রাস্তায় কষ্ট করে যাচ্ছেন।






















