অর্থ ও বাণিজ্য ২৪ এপ্রিল, ২০২৬ ০৭:৩০

উত্তপ্ত বাজারে স্বস্তি নেই কোনও পণ্যে

নিজস্ব প্রতিবেদক
কেবল প্রকৃতিই নয়, উত্তপ্ত নিত্যপণ্যের বাজারও। মাছ, মাংস, ডিম, সবজি থেকে শুরু করে সব পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী। ফরে দিশেহারা সাধারণ মানুষ। আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের এই ক্রমবর্ধমান অসামঞ্জস্যে স্বস্তি খুঁজে পাওয়া দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। বাজারে গিয়ে নিজেদের চাহিদা মেটাতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে উদ্বেগ আর অসন্তোষ।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাজধানীর মিরপুর ১ নম্বরের কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায় এমন চিত্র।


উত্তপ্ত সবজির বাজার
সবজির বাজার এখনও উত্তপ্তই রয়েছে। স্বস্তি ফেরেনি সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে। ক্রেতারা বলছেন, সব ধরনের সবজির দাম অনেক বেশি। অপরদিকে ক্রেতারা বলছেন, দাম কিছুটা কমেছে এবং আরও কমবে।

আজ বাজারে প্রতিকেজি দেশি টমেটো ৫০-৭০ টাকা, দেশি গাজর ৬০ টাকা, লম্বা বেগুন ৮০-১০০ টাকা, সাদা গোল বেগুন ৮০ টাকা, কালো গোল বেগুন ১২০ টাকা, শিম (প্রকারভেদে) ৯০-১০০ টাকা, শজনে ২০০ টাকা, দেশি শসা ১০০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, কাঁকরোল ১২০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৭০ টাকা, পটোল (হাইব্রিড) ৮০ টাকা, দেশি পটোল ১৪০ টাকা, চিচিঙ্গা ৮০ টাকা, ধুন্দল ৮০ টাকা, ঝিঙা ১০০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা, কচুর লতি ৯০ টাকা, মুলা ৬০ টাকা, কচুরমুখী ১০০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১০০ টাকা, ধনেপাতা (মানভেদে) ১৬০ টাকা, শসা (হাইব্রিড) ৬০ টাকা, পেঁপে ৭০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৫০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। আর মানভেদে প্রতিটি লাউ ৮০-১০০ টাকা, চাল কুমড়া ৬০ টাকা, ফুলকপি ৮০ টাকা, বাঁধাকপি বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়। আর প্রতি হালি কাঁচা কলা ৪০ টাকা। এছাড়া প্রতি হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ৩০-৪০ টাকা করে।

এ ক্ষেত্রে দেখা গেছে, ওপরে উল্লেখিত ৩২টি সবজির মধ্যে ৮০ থেকে ১০০ টাকা বা এর ওপরে দাম রয়েছে ২১টির। বাকি সবজির দাম রয়েছে ৫০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে।

বাজার করতে আসা মো. শাহাবুদ্দীন বলেন, সবজির দাম অনেক বেশি। রোজার সময় যে দাম বেড়েছিল, সেরকমই আছে বলা চলে। সব কিছুর দাম যদি এরকম বেশি থাকে তাহলে আমাদের মতো সাধারণ মানুষ কীভাবে খেয়ে বাঁচবে!

আরেক ক্রেতা মেহেদী হাসান বলেন, আমার এখন প্রতিনিয়ত অভাবে পড়ে যাচ্ছি। আমার সংসারে অভাব চলে এসেছে। অথচ এরকম হওয়ার কথা ছিল না। কারণ আমি যে বেতন পাই, সেটা দিয়ে আমার মোটামুটি চলেই যাচ্ছিল। কিন্তু এখন জিনিসপত্রের দাম বাড়াতে এই পরিস্থিতি দেখতে হচ্ছে। আমার বেতন ঠিক আছে, কিন্তু খরচ বেড়ে গেছে। 

এদিকে সবজি বিক্রেতাদের দাবি, সবজির দাম কমে গেছে। সামনে আরও কমবে।

সবজি বিক্রেতা মো. রাজিব বলেন, গত সপ্তাহের তুলনায় সবজির দাম কিছুটা কমেছে। কিছু দিন পরে হয়তো বেশ কয়েকটি সবজির দাম আরও কমে যাবে।

ধীরে বাড়ছে আদা-রসুন-পেঁয়াজের দাম

বলা যায় অস্থির বাজারে স্বস্তি ছিল আলু-পেঁয়াজ, আদা-রসুনের দামে। তবে আজ দেখা গেছে ধীরে ধীরে বাড়ছে এসব পণ্যের দামও। হয়তো টাকার অঙ্কে সামান্য, তবু নীরবেই যেন ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে এসব পণ্যের দামে।

গত সপ্তাহে ক্রস জাতের পেঁয়াজ ৩০-৩৫ টাকায় বিক্রি হলেও আজ বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়। দেশি পেঁয়াজও ৪০ টাকায় বিক্রি হলেও আজ বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকায়। একইভাবে দেশি রসুন ৭০-৮০ টাকায় বিক্রি হলেও আজ কেবল ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ভারতীয় আদা ১২০-১৩০ টাকায় বিক্রি হলেও আজ বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকা কেজিতে। এছাড়া প্রতিকেজি লাল আলু ২০ টাকা, সাদা আলু ২০ টাকা, বগুড়ার আলু ৩০ টাকা, দেশি রসুন ৮০ টাকা, চায়না রসুন ১৬০-১৮০ টাকা, চায়না আদা ১৬০ টাকা, ভারতীয় আদা ১৪০ দরে বিক্রি হচ্ছে।

জ্বালানি সংকট বাজারে, মাছ-মাংসের দামও চড়া 

এখনও স্বাভাবিক হয়নি মাছ-মাংসের বাজার। সব ধরনের মুরগির মাংস এখনও বিক্রি হচ্ছে উচ্চ দামেই। এর মধ্যে কক মুরগির দাম কিছুটা কমলেও তা এখনও অনেক বেশি। একইসঙ্গে গরু ও খাসির মাংস, ডিম এবং মাছের দামও রয়েছে আকাশচুম্বী।

আজকে বাজারে প্রতিকেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮২০ টাকা ও খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ১২৫০ টাকা কেজি দরে। ব্রয়লার মুরগি ১৭৮-১৮৩ টাকা, কক মুরগি ৩৪০-৩৫০ টাকা, লেয়ার মুরগি ৩৫০ টাকা, দেশি মুরগি ৬৮০-৭৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আর প্রতি ডজন মুরগির লাল ডিম ১২০ টাকা এবং সাদা ডিম ১১০ টাকা, হাঁসের ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৬০-১৮০ টাকা দরে।

মুরগির মাংসের দাম আর কমার সম্ভাবনা নেই জানিয়ে আল-আমিন চিকেন হাউজের বিক্রেতা বলেন, কক মুরগির দাম কিছুটা কমেছে। কিন্তু আর কমার কোনও লক্ষণ দেখছি না। অন্য মুরগির দামও আর কমবে বলে মনে হয় না। বিদ্যুৎ না থাকলে মুরগির উৎপাদন কমে যায়। গ্রামে এখন বিদ্যুৎ থাকে না। তাই মুরগির সাপ্লাই কমে গেছে। দামটা এই কারণেই বেশি।

এদিকে ডিমের দাম বাড়তি থাকা নিয়ে শহীদ ডিম ঘরের বিক্রেতা শহীদুল ইসলাম বলেন, ডিমের দাম বাড়তি, আবার আমাদের বিক্রিও কমে গেছে। এটা নিয়ে আমরা আছি বিপদে। বাজার বন্ধ করে দেয় সাড়ে ৭টায়। বাজারের কারেন্ট বন্ধ করে দেয়। তখন বাধ্য হয়ে আমাদের চলে যেতে হয়। এটার কারণেও আমাদের বিক্রি অনেক কমে গেছে। কারণ অনেক মানুষ আছে যারা সন্ধ্যার পর বাজার করে। তারা এখন আর আসে না। এসব মিলিয়ে আমাদের ব্যবসার পরিস্থিতি ভালো না।

এছাড়া আজকের বাজারে আকার ও ওজন অনুযায়ী ইলিশ মাছ ১৬০০-৩২০০ টাকা, রুই মাছ ৩৫০-৬০০ টাকা, কাতল মাছ ৩৫০-৬৫০ টাকা, কালিবাউশ ৩৫০-৭০০ টাকা, চিংড়ি ১১০০-১৪০০ টাকা, কাঁচকি মাছ ৪০০-৫০০ টাকা, কৈ মাছ ২৬০ টাকা, পাবদা মাছ ৪০০-৬০০ টাকা, শিং মাছ ৪০০-১২০০ টাকা, টেংরা মাছ ৬০০-১০০০ টাকা, বেলে মাছ ৭০০-১১০০ টাকা, মেনি মাছ ৮০০-৯০০ টাকা, বোয়াল মাছ ৬০০-১০০০ টাকা, রূপচাঁদা ১৪০০-১৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

উচ্চমূল্যেই অপরিবর্তিত মুদি পণ্য

এখনও উচ্চমূল্যেই অপরিবর্তিত অবস্থায় আছে মুদি দোকানের প্রায় সব ধরনের পণ্যের দাম। শুধু বুটের ডাল কমেছে কেজিতে ১০ টাকা। এছাড়া অন্যান্য পণ্যের দাম রয়েছে অপরিবর্তিত।

আজকে প্রতিকেজি প্যাকেট পোলাও চাল ১৭০ টাকা, খোলা পোলাও চাল মানভেদে ১৩০-১৫৫ টাকা, ছোট মসুর ডাল ১৫০ টাকা, মোটা মসুর ডাল ৯০ টাকা, বড় মুগ ডাল ১৪০ টাকা, ছোট মুগ ডাল ১৭০ টাকা, খেসারি ডাল ১০০ টাকা, বুটের ডাল ১০০ টাকা, ছোলা ৮০-৯৫ টাকা মাষকলাইয়ের ডাল ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আর প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৯৫ টাকা, খোলা সয়াবিন তেল ১৯০ টাকা, কৌটাজাত ঘি ১৪২০-১৫৫০ টাকা, খোলা ঘি ১৪০০ টাকা, প্যাকেটজাত চিনি ১০৫ টাকা, খোলা চিনি ১০০ টাকা, দুই কেজি প্যাকেট ময়দা ১৪৫  টাকা, আটা দুই কেজির প্যাকেট ১৩০ টাকা, খোলা সরিষার তেল প্রতি লিটার ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া এলাচ ৫২০০ টাকা, দারুচিনি ৫৬০ টাকা, লবঙ্গ ১৪৫০ টাকা, সাদা গোল মরিচ ১৩৫০ টাকা ও কালো গোল মরিচ ১২৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।